একটি শিক্ষামূলক ইসলামিক গল্প পড়লে বুঝতে পারবেন জীবনের মূল্য কি?

0
6

কোন এক ব্যাক্তি ঈশ্বারকে প্রশ্ন করলেন, ‘জীবনের মূল্যায়ন কি?’ তখন ঈশ্বর ঔ ব্যাক্তিকে একটি পাথর হাতে দিয়ে বললেন, ‘ তুমি এই পাথরের মূল্য যাচাই করে এসো, তবে এটা কিন্তু বিক্রি করা যাবে না।

তখন ঔ লোকটি এক কমলা বিক্রেতার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা এই পাথরটির মূল্য কত হবে? তখন ঔ কমলা বিক্রেতা পাথরটি ভালো ভাবে দেখে বললো, আচ্ছা তুমি এক কাজ কর তোমার এই পাথরটি আমাকে দাও, আমি তোমাকে ২ হালি কমলা দিয়ে দেব। তখন লোকটা বলল, কিছু মনে করবেন না ভাই আমি শুধু মাত্র এই পাথরটির দাম যাচাই করলাম।

লোকটি আবার একটি সবজি বাজারে গিয়ে এক সবজি বিক্রেতার কাছে একই প্রশ্ন করলেন, এই পাথরটির মূল্য কত হবে? তখন ঐ সবজি বিক্রতা লোকটিকে বলল, আমাকে এই পাথরটি দিন আমি আপনাকে এক ব্যাগ আলু দিয়ে দেব। তখন আবার লোকটা বলল, কিছু মনে করবেন না ভাই আমি শুধু মাত্র এই পাথরটির দাম যাচাই করলাম।

এখন লোকটি স্বর্ণপট্টিতে গিয়ে এক স্বর্ণালংকার দোকানের মালিকের কাছে তার পাথরটি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, এই পাথরটির মূল্য কত? তখন দোকানদার লেন্স দিয়ে পাথরটি কয়েকবার দেখে বলল ‘পাথটি আমাকে দিয়ে দাও, আমি তুমাকে ১ লাখ টাকা দেব।’ লোকটি বললো ‘না ভাই এটা বিক্রয় করবো না, দামটা যাচাই করলাম।’ তখন দোকানী বললো ‘ঠিক আছে বিক্রয় করতে চাইলে আমি ১০ লাখ টাকা দেব।’ লোকটি এবার বিনয়য়ের সাথে বললো, ‘না ভাই সত্যি বলছি এটা বিক্রয় করবো না, দামটা যাচাই করলাম।’

অন্য একটি শহরে গিয়ে, লোকটি এক মূল্যবান পাথর বিক্রেতার কাছে পাথরটি দেখিয়ে বলল এই পাথরটির মূল্য কত হতে পারে? তখন জহরি দেখলো এটা মহামূল্যবান রুবি পাথর। তাই টেবিলের উপরে প্রথমে একটি কাপড় রাখলো, অত:পর কাপড়ের উপর পাথরটি রেখে এর চারিদিকে ঘুরে ঘুরে বারবার পাথরে চুমু খাচ্ছিল। এবং লোকটিকে বললো ‘আমার সমুদয় সম্পদ বিক্রয় করে দিলেও এই মহামূল্যবান পাথর আমি কিনতে পারবো না।’

লোকটি পাথরটি নিয়ে হতবাক চিত্তে মানসিক দ্বিধা নিয়ে ঈশ্বরের কাছে ফিরে এসে সমুদয় ঘটনাবলি বর্ণনা করে বললো ‘এবার বলেন জীবনের মূল্যায়ন কি?’

লোকটি ঈশ্বর বললেন, কমলা, শব্জি, অলংকার বিক্রেত এবং জহরির কাছ থেকেই তুমি জীবনের মূল্যায়নের ব্যাখ্যা এবং উত্তর পেয়েছ। তুমি হয়তো মহামূল্যবান হিসাবে এমনকি মূল্যহীন হিসাবে মূল্যায়িত হতে পারো কিন্তু মনে রেখ প্রত্যেক মানুষই তোমাকে তাদের নিজস্ব জ্ঞানের পরিধি, বিশ্বাসের স্তর, তোমার প্রতি তাদের উদ্দেশ্য, তাদের আকাঙ্ক্ষা, তাদের ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করেই তোমাকে মূল্যায়ন করবে …… এতে ভীত হওয়ার কিছুই নেই, কারণ অন্তত কেউ না কেউ তুমার জীবনে পাবে যে তোমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবে।”

সর্বশেষ তখন ঈশ্বর ঐ লোকটিকে বললেন, “আমার চোখে প্রত্যাক মানুষই অত্যন্ত মুল্যবান,,। কে তোমাকে কতটুকু মূল্যায়ন করল সেটা চিন্তা না করে আমার আদেশ-নিষেধ মেনে চলো।

প্রিয় প্রিয়টিউনস ন্ধুগণ আমার লেখাটি আপনাদের কেমন লাগল। নিয়োমিত প্রিয়টিউনস এর সাথে থাকুন। সবাইকে ধন্যবাদ।¤

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here