সাকিব–তামিমরা চলে গেলে কী হবে জেনে নিন

0
4
• কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার অভিষিক্ত খেলোয়াড়েরা খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি। 
• সাকিব-তামিমের অনুপস্থিতে হাতে খুব বেশি বিকল্প না থাকায় টিম ম্যানেজমেন্ট বাধ্য হয়েছে নতুন মুখে আস্থা রাখতে! 
• কিন্তু একটা সময় সাকিব-তামিমরা খেলাটা ছেড়ে দিলে বিকল্প কী হবে, ভেবেছে বিসিবি?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে গতকাল একসঙ্গে বাংলাদেশের চার খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে। চার খেলোয়াড়ের অভিষেকের ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল মোসাদ্দেক হোসেন, মুক্তার আলী, মোহাম্মদ শহীদ ও আবু হায়দারের। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে সুযোগ করে দিয়েছিলেন চার তরুণকে।

টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ছাড়া সর্বোচ্চ ছয় খেলোয়াড়ের অভিষেকের ঘটনাও আছে বাংলাদেশের। ২০০৭ সালে নাইরোবিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল অলক কাপালি, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাজিমউদ্দিন, সৈয়দ রাসেল ও তামিম ইকবালের। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। নিজেদের শক্তি-টক্তি যাচাই নয়, একের পর এক চোটাঘাতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সম্ভ্রম বাঁচানোর লড়াইয়ে নিরুপায় হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছে জাকির হাসান, আফিফ হোসেন, আরিফুল হক ও নাজমুল ইসলামের মাথায়।

কেমন করলেন চার তরুণ খেলোয়াড়? আরিফুল হক ১ রানে অপরাজিত, আফিফের পাশে শূন্য, জাকির করেছেন ১০। যা একটু সফল বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল। শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের বেধড়ক পিটুনির মধ্যে তিনিই যা একটু সমীহ আদায় করতে পেরেছেন, ২৫ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। অভিষিক্তদের ওপর আকাশসম প্রত্যাশা কখনোই থাকে না। খানিকটা ‘অচেনা’ বলে তাঁদের নিয়ে প্রতিপক্ষের কাটাছেঁড়ার সুযোগও থাকে কম। বেশির ভাগ সময়ই এ সুযোগটা কাজে লাগাতে দেখা যায় বাংলাদেশের অভিষিক্ত খেলোয়াড়দের। এবার যদিও এমন কোনো জাদুকরি পারফরম্যান্স দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখা কারও কাছ থেকে। কারণটা কী সেটা তো শ্রীলঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ম্যাচের আগের দিনই জানিয়ে দিয়েছেন, বিপিএলের সৌজন্যে সবাইকেই তাঁদের চেনা!

অনভিজ্ঞতা ও অভিষেকের স্নায়ুচাপে চ্যাপ্টা হয়ে আফিফ-জাকিররা আলো ছড়াতে পারেননি, তাতে এখনই তরুণ খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় তোলা যাচ্ছে না। কিন্তু এটা যে কত বড় অশনিসংকেত সেটি কি উপলব্ধি করতে পারছে বিসিবি? টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফি বিন মুর্তজা আগেই নেই। চোটে পড়ে নেই সাকিব আল হাসান। চোটে পড়ায় অনিশ্চয়তায় তামিম ইকবালও। বাংলাদেশ ক্রিকেটের তিন স্তম্ভ না থাকায় টিম ম্যানেজমেন্ট যেন দিশেহারা! হাতে অনেক বিকল্পও নেই তাদের। বাধ্য হয়েছে নতুন মুখে আস্থা রাখতে। কিন্তু নতুনেরা এসেই যে আলো ছড়াবেন, সেটির নিশ্চয়তা কী?

সাকিব এখন নেই, কদিন পরে নিশ্চয়ই ফিরবেন। তামিমের চোটও নিশ্চয়ই সেরে যাবে। কিন্তু যখন এই স্তম্ভরা খেলাটা ছেড়ে দেবেন তাঁদের বিকল্প কী হবে? সাইড বেঞ্চ কি শক্তিশালী? পাইপলাইন কি আদৌ সমৃদ্ধ? শক্তিশালী-সমৃদ্ধ হবেই যদি দলটা হঠাৎ কেন ‘কচিকাঁচার আসরে’ পরিণত হলো? নিজেদেরই মাঠে প্রতিপক্ষ কেন বিশাল স্কোর হেসে-খেলে টপকে গেল?

কপিল দেবের পর ভারত মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পেয়েছে। শচীন টেন্ডুলকারের পর বিরাট কোহলির মতো ‘রানমেশিন’ পেয়েছে। বীরেন্দর শেবাগের পর রোহিত শর্মার মতো বিধ্বংসী ওপেনার পেয়েছে। অনিল কুম্বলের প্রস্থানের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, যুজবেন্দ্র চাহালরা এসেছেন। সেখানে বাংলাদেশের চিত্রটা কী? মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকরা একসঙ্গে চোটে পড়লেই দলটা দিগ্ভ্রান্ত তরিতে পরিণত হয়। সোনালি এই প্রজন্মটা ক্রিকেট থেকে একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেলে কী যে হবে!

ক্রেডিট :- প্রোথমআলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here