ব্লগিং কি ? ব্লগ সাইট খুলতে চাচ্ছেন ? ব্লগি করে টাকা আয় করা কি যায় ? এ সব কিছু নিয়ে আজকের টিউনস?

0
85

শেষ নোট: এই টিউনে বিবৃত তথ্য ব্যবহার করে আপনি যদি কোন প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে তার দায়ভার শুধুই আপনার। আমি chayan molla মনে করি এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে অনলাইনের প্রতিটি তথ্য জানার নিরুঙ্কুশ স্বাধীনতা প্রতিটি ইউজারের রয়েছে। তাই এই টিউন শেয়ার করছি। যেটা করবেন নিজ দায়িত্বে করবেন। আমি বা কিক্সবিডি  আপনার কোন প্রকার ক্ষতির জন্য দায়ী থাকব না।

আজকে আমরা ব্লগিং শুরু করার করার আগে যে বিষয়গুলি ভাবতে হয় সেগুলি নিয়ে আলোচনা করব। হুট করে ব্লগিং শুরু করা ঠিক না। ব্লগিং শুরু করার আগে আপনাকে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। সেগুলি নিয়েই আজকের ক্লাশটি সাজানো হয়েছে।

 

ব্লগিং সম্পর্কে আপনারা গত ক্লাসে নিশ্চয় জেনেছেন। এখন ব্লগিং শুরু করার পালা। এই যে ভাই, খারান। এখনি দৌড় মারতেছেন। মনে হচ্ছে দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসবেন। আরে ভাই এত সহজ না। ব্লগিং শুরু করার আগে আপনাকে এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেন পরে না আটকে যান। যাই হোক আজকের ক্লাস এখান থেকেই শুরু করছি।

ব্লগিং শুরু করার আগে যা ভাববেনঃ

১. ব্লগিং এ ইনভেস্ট করবেন কিনাঃ

ব্লগিং শুরু করার আগে আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে ইনভেস্ট করবেন কিনা। ইনভেস্ট বলতে আপনার ব্লগ সাইটটি তৈরির কথা বলা হচ্ছে। আপনি প্রথমে ফ্রি ব্লগ দিয়েও শুরু করতে পারেন। আর যদি প্রথমেই প্রফেশনালদের মত শুরু করতে চান, তাহলে কিছু ইনভেস্ট তো করতে হবেই। ইনভেস্ট করা হবে আপনার ব্লগের জন্য ডোমেইন এবং হস্টিং কেনার জন্য। ডোমেইন এবং হস্টিং সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। আমি শুধু বলব, ব্লগিং শুরু করলে ডোমেইন হস্টিং কিনেই শুরু করা উচিত। সেক্ষেত্রে সব মিলিয়ে আপনার ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বেশী খরচ হবে না। আর যদি কেউ মনে করে আমি প্রথমেই ইনভেস্ট করব না, তার জন্যও উপায় আছে।

২. ব্লগিং প্লাটফর্মঃ

দ্বিতীয়ত আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কোন প্লাটফর্মে ব্লগ তৈরি করবেন। নিম্নে জনপ্রিয় দুইটি প্লাটফর্ম নিয়ে আলোচনা করা হল।

  • ওয়ার্ডপ্রেসঃ প্রফেশনাল ব্লগারদের  জন্য ওয়ার্ডপ্রেসই বেস্ট। কারন ওয়ার্ডপ্রেসকে ব্লগিং জগতের হিরো বলা হয়। ব্লগিং এ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আপনি ওয়ার্ডপ্রেস থেকেই পেতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেসের সবচেয়ে সুবিধা হল, ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ তৈরি করতে আপনাকে ওয়েব ডেভেলপিং সম্পর্কে জানতে হবে না। ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারনা থাকলেই আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি সুন্দর ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগ তৈরি করতে হলে আপনাকে ডোমেইন এবং হস্টিং কিনে কাজ করতে হবে।
  • ব্লগস্পটঃ যারা ফ্রি ব্লগিং করতে চান, তাদের জন্য ব্লগস্পট আশীর্বাদ স্বরূপ। ব্লগস্পট সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের একটি সার্ভিস, তাই এর নিরাপত্তা ১০০% । আপনি ব্লগস্পট এর মাধ্যমে খুব সুন্দর একটি ব্লগ সম্পূর্ণ ফ্রিতে তৈরি করে ফেলতে পারেন। ব্লগস্পট দিয়ে ব্লগ তৈরি করলে আপনার এক টাকাও খরচ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

৩. ব্লগিং এর বিষয়ঃ

এখন আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কি নিয়ে ব্লগিং করবেন। অনেকে আছেন হুট করে এক বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করে দেন। এতে তিনি এক পর্যায়ে গিয়ে থামতে বাধ্য  হন। কারন তার জ্ঞানের ঝুলি শেষ। তাই আপনাকে এমন একটি বিষয় বেছে নিতে হবে, যেটা আপনি সবচেয়ে ভালো বুঝেন। ধরুন আপনি ঘুরতে ভালোবাসেন, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান নিয়ে আপনি ব্লগিং করলেই আপনার ভালো হবে। কারন আপনি সেটা সম্পর্কে জানেন। যদি আপনি একটা দর্শনীয় জায়গায় গেলেন কিন্তু আপনি বেড়াতে ভালোবাসেন না। আপনি কি একটা জায়গা সম্পর্কে জানেন জন্যই সেই বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করবেন? এটা থবে আপনার ভুল। কারন আপনি ভ্রমন সম্পর্কে আর কিছুই জানেন না। এজন্যই আপনাকে এমন একটা বিষয় বেছে নিতে হবে, যার সম্পর্কে আপনার বিস্তর জ্ঞান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু জানার নিশ্চয়তা আছে।

৪. সময় দেয়ার নিশ্চয়তাঃ

অনেকেই আছেন শখের বশে ব্লগিং শুরু করেন, কিন্তু পরে সময় দিতে পারেন না। এতে তার কোন লাভ হবে না। কারন হাতে প্রচুর সময় থাকলেই ব্লগিং করা উচিৎ। সাফল্য পাওয়ার পরে বেশী সময় না দিলেও চলে। তাই আপনাকে ব্লগিং এ সময় দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেই ব্লগিং এ নামতে হবে। নতুবা আপনি খুব তাড়াতাড়িই ব্লগিং থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবেন।

অনেকেই এখনও ব্লগিং শুরু করেন নি। কিন্তু ব্লগিং শুরু করার পরিকল্পনা এবং স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তাদের পরিকল্পনায় সফলতা এনে দিতে হয়ত কিছুটা হলেও এই পোস্ট কাজে আসবে আশা রাখছি। আর সেই আশা থেকেই আজ লিখছি নতুন কিংবা হবু ব্লগারদের জন্য প্রাথমিক কিছু টিপস।

১. ব্লগ সম্পর্কে জানুনঃ

ব্লগ শুরু করবেন আর ব্লগ সম্পর্কে জানবেন না তা তো কিছুতেই হতে পারেনা। তাই আপনার ব্লগিং জীবনের শুরুর প্রথম ধাপ হল ভালোভাবে ব্লগিং সম্পর্কে জেনে নিন। ব্লগ কি?, ব্লগিং করে লাভ কি?, ব্লগিং করে কি আয় হয়?, ব্লগিং কিভাবে করে?, ব্লগিং করতে কি কি গুণ থাকতে হয়? ব্লগিং এর প্রকারভেদ কি কি? এই আর কি সবধরণের প্রাথমিক প্রশ্নের উত্তর জানুন। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল যে, “আপনি কতদিন বা কত বছর যাবত ব্লগ পড়ছেন?” বেশি বেশি বই পড়লে যেমন লেখক হওয়া যায় ঠিক ব্লগিং শুরু করতে আপনার প্রয়োজন হবে দীর্ঘ সময়ব্যাপী ব্লগ পড়ার সম্পৃক্ততা।
ব্লগ সম্পর্কে জানুন

২. সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনাঃ

আপনি অনেকদিন ধরে ব্লগ পড়ছেন। এবার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন আপনি ব্লগ লিখবেন। তাহলে ব্লগিং জগতে আপনাকে স্বাগতম ! এবার একটি দক্ষ পরিকল্পনা করে ফেলুন। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুলতে যেমন অনেক পরিকল্পনা করতে হয় ঠিক তেমন পরিকল্পনা। পরিকল্পনার বিষয়গুলো হবেঃ কি বিষয়ে ব্লগিং করবেন, আপনি কি নিজের ব্লগ সাইটে ব্লগিং করবেন?, আপনি কি আয়ের জন্য ব্লগিং করবেন নাকি শখ মেটাতে? এবং শুরু করতে আরও ইত্যাদি ইত্যাদি যেসব বিষয় ভাবতে হয় সেগুলো দক্ষতার সাথে ভাবুন। তবে সবচেয়ে জোর দিন আপনি কিসের উপর ব্লগিং লিখতে চাচ্ছেন? এই প্রশ্নের সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য উত্তর হল, “আপনি যে বিষয়ে ভালো জানেন শুধু সেই বিষয়েই ব্লগিং লিখবেন।” অন্য কোন অজানা টপিকে ভুলেও হাত দিবেন না।

সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা

৩. প্লাটফর্ম নির্বাচনঃ

ইতিমধ্যেই ২ নম্বর ধাপে আপনাকেদেরকে একটি প্রশ্ন করেছি। আপনি কি নিজের ব্লগ সাইটে ব্লগ লিখবেন নাকি অন্য প্রতিষ্ঠিত মাল্টি ব্লগিং সাইটে ব্লগ লিখবেন? আমি মূলত লিখছি আজকের পোস্ট নিজের ব্লগ সাইটে ব্লগিং নিয়ে। ধরে নিলাম আপনি নিজেই ব্লগ সাইট খুলে ব্লগিং করবেন। তারপর আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনি কোন ব্লগিং প্লাটফর্ম -এ লিখবেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা দু’টি ব্লগিং প্লাটফর্ম হল ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগস্পট। তবে আপনাকে প্রথমত ব্লগস্পট ব্যবহারের পরামর্শ দিব। ওয়ার্ডপ্রেস বিশ্বের এক নম্বর ব্লগিং প্লাটফর্ম তাতে কারোই সন্দেহ নেই। কিন্তু মনে রাখতে হবে ওয়ার্ডপ্রেস যেহেতু বড় প্লাটফর্ম তাই এতে ব্লগিং করতে হলে আপনার জ্ঞানও থাকতে হবে বড়। কিন্তু আপনি যেহেতু একেবারেই নবীন একজন ব্লগার তাই আপনার জন্য ব্লগস্পট সবচেয়ে কার্যকারী প্লাটফর্ম। অভিজ্ঞ হওয়ার পর আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে হাত দিতে পারবেন সহজেই। তাই ছোট প্লাটফর্ম দিয়েই শুরু করুন। কারণ আগে স্বরবর্ণ শিখেই ব্যঞ্জনবর্ণতে হাত দিতে হয়।

ব্লগিং প্লাটফর্ম

৪. ডোমেইনঃ

ব্লগস্পট একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম। এতে ডোমেইন/হোস্টিং পুরো ফ্রি। কিন্তু ডোমেইনটি আপনাকে দেওয়া হয় সাধারণত সাবডোমেইন। তবে ব্লগস্পট আপনাকে আপনার নিজস্ব কেনা ডোমেইন ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে থাকে। আপনি যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে থাকেন তবে একটি টপ লেভেল ডোমেইন (যেমনঃ ডট কম, ডট নেট, ডট অরগ, ডট ইনফো ইত্যাদি) কিনে নিতে পারেন। একটি ডোমেইন আপনি ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যেই কিনতে পারবেন। আর যদি আপনি ডোমেইন কিনতে সমর্থ না হন তবে মন খারাপ করার কিছুই নেই পরবর্তীতে কিনে নিবেন। আমিও আর্থিক সমস্যার কারণে ব্লগ শুরুর ৬ মাস পর ডোমেইন কিনেছিলাম।

ডোমেইন

৫. ব্লগ ডিজাইনঃ

ব্লগস্পটে ব্লগ ডিজাইন খুবই সহজ বলতে গেলে। ব্লগস্পটের ডিফল্ট টেমপ্লেট কাস্টমাইজ করা নতুনরা অল্পতেই শিখতে পারবেন। কিন্তু এক্সটারনাল টেমপ্লেট ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে এইচটিএমএল, সিএসএস এবং অন্যান্য কিছু ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে কাস্টমাইজ করার জন্য। ব্লগ ডিজাইন করতে আদর্শ হিসেবে বিভিন্ন ব্লগ সাইটের ডিজাইন অনুসরণ করতে পারেন। আপনি “ব্লগে নতুন” এই শব্দটা মনে কখনই প্রশ্রয় দিবেন না অন্তত ডিজাইনের ক্ষেত্রে। ডিজাইন করতে নিজেকে সবসময় মনে মনে প্রফেশনাল মনে করুন। খুবই সাদামাটার মাঝেও আকর্ষণীয় ব্লগ ডিজাইন করা সম্ভব। প্রফেশনাল ডিজাইনাররা মূলত এটাই করে থাকে। ব্লগ ভিজিটর কোন ধরণের ডিজাইন পছন্দ করে সেটি ভাবুন অথবা নিজে নিজেই ব্লগের ভিজিটর হোন এবং ঠিক করুন ব্লগটি কেমন ডিজাইনের হওয়া উচিত। এভাবেই সাদামাটা একটি আকর্ষণীয় ব্লগ ডিজাইন করে ফেলুন।

ব্লগ ডিজাইন

৬. কন্টেন্ট লেখাঃ

ব্লগিং এর প্রাণ বা রক্ত যাই বলুন না কেন, কন্টেন্ট হল ব্লগিং এর মূল সম্পদ। এই ব্যাপারে আমি হাজারবার শুধু একটা কথাই বলব সেটা হল, “ইউনিক কন্টেন্ট লিখুন”। অর্থাৎ নিজে লিখুন। কোন ক্রমেই কপি পেস্ট করবেন না। কপি পেস্ট কন্টেন্টের ১% মূল্যও নেই। আপনার কাছে কপি পেস্টের কাছে বিশাল কিছু হলেও আপনি বাদে সবাই কপি পেস্ট কন্টেন্ট ঘৃণা করে। আরেকটা কথা বলব সেটা হল, “কপি পেস্ট কন্টেন্ট দিয়ে ব্লগ লিখে আর যাই কিছু হওয়া যাক না কেন অন্তত ব্লগার হওয়া যায়না”। তাই এদিক ওদিক না দেখে সুন্দর, সাবলীল ভাষায় নিজের কন্টেন্ট লিখুন ধারাবাহিকভাবে। আপনি যে টপিক লিখবেন সে বিষয়ে পাঠককে সুন্দরভাবে বুঝাতে যেরকমভাবে বুঝাতে হবে ঠিক সেভাবেই আপনার লেখনীর মাধ্যমে বুঝাবেন। বানান ভুল না করার যথেষ্ট চেষ্টা করবেন। গ্রামাটিক্যাল এবং বানান ভুল চেক করার জন্য বিভিন্ন সাইট রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

ইউনিক কন্টেন্ট

৭. এসইওঃ

ব্লগের কন্টেন্ট লিখলেন সুন্দর সুন্দর কিন্তু ভিজিটর তো আপনার কন্টেন্ট সম্পর্কে এমনি এমনি জানবেনা। ইন্টারনেটের বেশিরভাগ ব্যবহারকারিরা কোন বিষয় জানতে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন সাইটে সার্চ করে। কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে। কেউ সার্চ করল আর হাজার হাজার ব্লগের মাঝে আপনার ব্লগটি প্রথম সার্চ রেজাল্টে আনতেই কাজ করে এসইও। এসইও শব্দের অর্থ হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। তাই ব্লগের জন্য কার্যকারী এসইও করতে পারলে আপনার ব্লগে আসতে থাকবে প্রচুর পরিমাণ পাঠক।

এসইও

আপনারা ইতিমধ্যেই ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম ব্লগস্পট সম্পর্কে যেনে গেছেন। আজকে ব্লগস্পট নিয়েই আলোচনা করব।

ব্লগস্পট কি?

ব্লগস্পট কি? ব্লগস্পট হল সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম। বর্তমানে যতগুলো ফ্রি ব্লগ সার্ভিস আছে তার মধ্যে সেরা হল ব্লগস্পট। ব্লগস্পটের লিঙ্ক হলঃ http://www.blogger.com এখানে আপনি ফ্রিতে আপনার প্রথম ব্লগটি সুন্দরভাবে তৈরি করতে পারবেন। কোন প্রোগ্রামিং জ্ঞান ছাড়াই এখানে একটি খুব সুন্দর মানের ব্লগ তৈরি করা সম্ভব।

 ব্লগস্পট এর সুবিধাঃ

ব্লগস্পট এর মালিক গুগল চেষ্টা করে গ্রাহক কে সর্বচ্চো সুবিধা দেয়ার। আপনি ব্লগ ডিজাইনে ব্লগস্পট থেকে মোটামুটি পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। ব্লগস্পটের রয়েছে বেশকিছু নিজস্ব থিম। এছাড়া ইন্টারনেটে ফ্রিতে অসংখ্য থিম পাওয়া যায়। আপনি যেকোনো একটি থিম নিয়ে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন। ব্লগস্পোত এর রয়েছে হাই পারফর্মেন্স সার্ভার। আর সবচেয়ে বড় কথা হল এটি এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগিং প্লাটফর্ম, ফলে গুগল থেকে আপনি পাবেন অসংখ্য ভিজিটর। অনেক ব্লগ আছে যেগুলি টাকা দিয়ে তৈরি ব্লগ এর চেয়েও বেশী ভিসিটর পায়। তাই আমি আপনাদের ব্লগস্পট দিয়েই ব্লগিং শুরু করার কথা বলব। তাছাড়া অনেকে প্রথমেই টকা খরছ করতে চায় না, তাদের জন্য তো অবশ্যই ব্লগস্পট।

কেন এটি সেরা?

অনেকেই হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন যে, কেন এটি সেরা? আমি বলব এর মালিক গুগল তাই এটি সেরা। এর ইন্টারফেস আপনার পছন্দ না হলেও এটি সেরা, কারন এর মালিক গুগল। আপনারা আবার বলতে পারেন যে গুগল বলেই সেরা? হ্যাঁ, কারন ব্লগের প্রাণই হচ্ছে ভিজিটর। আপনি যদি কোন ভিজিটর না পান, তাহলে সুন্দর ডিজাইন আপনার কোন কাজে আসবে না। গুগল ব্লগসট কে যে চোখে দেখবে অন্যান্য ফ্রি ব্লগকে নিশ্চয়ই সেই চোখে দেখবে না। ফলে ভিজিটর কিন্তু ব্লগস্পটেই বেশী পাঠাবে। আর আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, গুগল ই সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন। তাই আগেই ভাবুন, পরে ব্লগস্পটের দিকে এলে আপনিই পিছিয়ে পরবেন। ব্লগস্পটে রয়েছে ডোমেইন পারকিং এর সুবিধা, যা অনেক জায়গাতেই নেই। আর এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। গুগল আপনার কাছ থেকে একটি টাকা চাইবে না, বা কোন প্রকার সুবিধা দাবি করবে না। সব বিষয় চিন্তা করে বলা যায়, ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসেবে ব্লগস্পটই সেরা।

এখান থেকে কি আয় করা সম্ভব?

হ্যাঁ, ব্লগস্পট এর আরেকটি সুবিধা হল এখান থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। আপনার ব্লগ যদি গুনগত মান-সম্মত হয়, তাহলে আপনি গুগল এর কাছে বিজ্ঞাপনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া আপনি অন্যান্য বিজ্ঞাপন সংস্থা থেকেও এখানে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এজন্য গুগল আপনার কাছ থেকে টাকার ভাগ চাবে না। অনেক ব্লগার আছেন যারা ব্লগস্পট এ ব্লগিং করেই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। আমার এক ফ্রেন্ড আছে, যে গত মাসে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছে তার দুইটা ব্লগস্পট ব্লগ থেকে। তাই আপনাদের বলব ব্লগস্পটে অন্যান্য প্রফেশনাল ব্লগ এর মতই আয় করা যায়।

কিছু অসুবিধাঃ

সব কিছুতেই একটু অসুবিধা থাকে, তারপরে এটি ফ্রি সার্ভিস। এর অসুবিধা গুলি নিম্নে দেয়া হলঃ

  • এখানে আপনি সহজেই অন্যদের লেখার সুযোগ দিতে পারবেন না।
  • এখানে আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের মত সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন না।
  • এখানে গুগলের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন গুলি মেনে চলতে হবে।
  • নিয়ম ভঙ্গ করলে আপনাকে ব্যান করা হতে পারে।
  • সম্পূর্ণ প্রোগ্রামিং সুবিধা পাবেন না।
  • ব্লগিং ইন্টারফেস পরিবর্তন করতে পারবেন না।
  • আপনি শুধুমাত্র ডিজাইন টাই কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

এর পরেও ব্লগস্পটই সেরা, কারন অন্যান্য জায়গায় এর চেয়েও বেশী অসুবিধা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

ব্লগিং শুরুর জরুরি ৫ ধাপ

ব্লগিং কিভাবে শুরু করা যায় সেটা নিয়ে আছে অনেক প্রশ্ন। ব্লগিং শুরুর ক্ষেত্রে এ আর্টিকেল সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে।

ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ঠিক করা
প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম কোনটা হবে, কি হবে। এ জন্য এখন পর্যন্ত সেরা হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করলে ব্যাপারটা পরিষ্কার বোঝা যাবে।

12083991_1108457435854353_2087455355_n

ওয়ার্ডপ্রেস সহজেই ইনস্টল করা যায়। এর ব্যবহারও সহজ হওয়ায় এটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তা ছাড়া এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রচুর ভালো থিম অনলাইনে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

এ মাধ্যমে কোনো কাজ করার সময় আটকে গেলে সহজেই সাপোর্ট পাওয়া যায় অনলাইনে। শেয়ারিং, কমেন্ট করা যায় খুব সহজেই। এসব কারণে ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার এবং সাইট ওনারদের কাছে প্রথম পছন্দ।

এছাড়াও আরও দুইটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, একটি হচ্ছে ব্লগার ডটকম আরেকটি টাম্বলার ডট কম।

 ফ্রি বনাম ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে ব্লগ তৈরি
নিজের সাইটে ব্লগিং করার ক্ষেত্রে কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের এ ধাপে এসে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্রি সাইট তৈরি করবে নাকি পেইড সাইট।

ফ্রি ব্লগের ইউআরএলে ওই প্ল্যাটফর্মের এক্সটেনশান থাকবে। কিনে নিলে সেখানে শুধুই সাইটের নাম থাকবে।

ফ্রি হলে সাইটের নাম হবে নিম্নরুপ :

  • আপনারব্লগ ডট ব্লগস্পট ডটকম ( www.yourblog.blogspot.com )
  • আপনার ব্লগ ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম ( www.yourblog.worpress.com )

এ ছাড়াও ফ্রি ব্লগে বেশ অনেক রকমের লিমিটেশন থাকে। মনেটাইজ করায় সমস্যা হতে পারে। ওয়ার্ডপ্রেসের ক্ষেত্রে ফ্রি থিম ব্যবহার করাও যাবে না।

তবে ব্লগারে টেমপ্লেট পরিবর্তন করা যাবে। গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে মনেটাইজ করাও যাবে।

ডোমেইন হোস্টিং কিনে ব্লগ করলে এসব সমস্যা হয় না। বর্তমানে দুই হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে ব্লগ শুরু করা যায়।

ডোমেইনের নাম প্রদান
ফ্রি নাকি পেইড এ সিদ্ধান্তে আসার পরের ধাপ হলো ডোমেইনের নাম ঠিক করা। এ জায়গায় অত্যন্ত সতর্ক হতে হয়। ব্লগের ডোমেইন নাম যেন ব্লগের মূল বিষয়কে ১ বা ২ শব্দে বোঝাতে পারে সেভাবে সিলেকশন করতে হবে।

যেমন, টেকনোলজি সম্পর্কিত কোনো ব্লগ করা হলে সেটা যেন ব্লগের নাম থেকেই বোঝা যায় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কেউ যদি স্পোর্টস নিয়ে ব্লগ করতে চায় তাহলে তাতে স্পোর্টস সম্পর্কিত শব্দ থাকলে তা সহজেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।

ডোমেইন এর নাম যেন খুব বেশি লম্বা না হয় কিংবা খুব কঠিন না হয়, সেইদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

bloging

ব্লগ ডিজাইন
প্রথম দর্শনধারী এরপর গুণবিচারী। বাংলা প্রবাদে এমন একটি কথা আছে। প্রথম দেখায় যাতে চোখ আটকে যায় সে দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ব্লগের ডিজাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রথমে কেউ ব্লগে প্রবেশ করলেই ভালো ইম্প্রেশন যাতে তৈরি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভালো ইম্প্রেশনের জন্য রুচিশীল ও আকর্ষণীয় ডিজাইন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রফেশনাল ডিজাইনার দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়াই হচ্ছে ভালো সমাধান। ব্লগে বিজ্ঞাপন কখনোই অতিরিক্ত পরিমানে ব্যবহার করা যাবে না।

সাবস্ক্রিপশন অপশন রাখতে হবে, যাতে পাঠকদের কাছে নতুন আর্টিকেল সহজেই চলে যায়। ব্লগে পাঠকদের মতামতের জন্য সঠিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। সর্বোপরি এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে ডিজাইন ও ডেভেলপের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

blog

ব্লগের মার্কেটিং
উপরের চার ধাপ করলেই যে কাজ শেষ তা কিন্তু নয়। প্রচার পেতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। ব্লগের সঠিক মার্কেটিং করতে হবে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) করতে হবে, যাতে সার্চে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। ব্লগের জন্য যেসব সামাজিক মাধ্যমগুলোতে অবশ্যই পেইজ বা একাউন্ট করতে হবে সেগুলো হলো-

  • ফেসবুক
  • গুগল প্লাস
  • টুইটার
  • স্ট্যাম্বল আপন
  • ডিগ
  • পিন্টারেস্ট

এ ছাড়া আরও অনেক সামাজিক মাধ্যম আছে যেগুলোতে ব্লগ আর্টিকেল শেয়ার করতে হবে, যাতে তা পাঠকপ্রিয়তা পায়। প্রচার না হলে কিংবা ব্লগের আর্টিকেল বেশি ভিউ না হলে এ থেকে আয় আসবে না।

ব্লগে আকর্ষণীয় শিরোনাম লেখার ৯ টিপস

 

গ তখনি মানুষ পড়বে ও ভাল র‍্যাংক করবে, যখন ব্লগের আর্টিকেলগুলোর শিরোনাম খুব আকর্ষণীয়ভাবে লেখা হবে। একটি চমৎকার শিরোনাম অনেক অচেনা পাঠককেও লেখার মধ্যে টেনে আনবে। এ কারণে দারুণ একটি শিরোনাম লেখার বেলায় অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হয়।

শিরোনাম কত বড় হবে, কতগুলো শব্দ ব্যবহার করা যাবে, কোন শব্দগুলো পরিহার করতে হবে ও মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে সেটির মিল কতটুকু তা মাথায় রাখতে হবে। এসব বিষয় মেনে শিরোনাম লিখতে খুব সহজ একটা ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা করব- যা আপনাদের আকর্ষণীয় শিরোনাম লিখতে সাহায্য করবে।

 

কার্যকরি শিরোনাম দিয়ে শুরু করুন
একটা কার্যকরি শিরোনাম হবে একেবারে সুনির্দিষ্ট। এটি আপনাকে সাহায্য করবে একটি সিংগেল ব্লগ পোস্ট তৈরি করতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শিশুদের স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠা বিষয়বস্তু থেকে আপনি অনেকগুলো কার্যকরি শিরোনাম তৈরি করতে পারেন। যেমন-

ক) কিভাবে সঠিক পুষ্টি আপনার শিশুর হাড়কে শক্তিশালী করে

খ) শিশুদের আচরণগত শিক্ষায় পিতা-মাতাদের করণীয়

গ) শিশুদের জন্য মজাদার রেসিপি

এখানে দেখুন, প্রতিটি শিরোনাম একটির থেকে অন্যটি ভিন্ন। অথচ মূল বিষয়বস্তু শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক। এগুলোর প্রতিটি কার্যকরি শিরোনাম হতে পারে। এগুলো ব্লগ পোস্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট ও যথেষ্ট। পরে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে এগুলোকে ক্লিক ও সার্চফ্রেন্ডলি করে তুলতে হবে।

শিরোনামে বাহুল্য শব্দ ও বিশেষণ বাদ দিন
পরিমাণমত লেখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে, যখনই আপনি সেখানে কোনো চালাকি করার চেষ্টা করছেন। যদি কোনো আর্টিকেল এমনভাবে লেখা হয় যেটিতে বলা হচ্ছে, ১০টি বিটুবি কোম্পানি ফেইসবুকে এমন ভাইরাল হচ্ছে যে এগুলোর আলাদা কোনো মার্কেটিং চ্যানেল দরকার নেই। তাহলে অনেকেই এ লিংকে ক্লিক করবে।

তবে এর আগে আপনার অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, খবরটি সত্য। চাইলে শিরোনামের পাশে ব্র্যাকেট ব্যবহার করতে পারেন ও তাতে কিছু শব্দ লিখতে পারেন যা মূল কনটেন্টকে রিফ্লেক্ট করে। যেমন ইনফোগ্রাফিক আর্টিকেলের জন্য টাইটের পাশে ব্র্যাকেটে ইনফোগ্রাফিক কথাটি ব্যবহার করা যায়।

 

ছন্দ মিলিয়ে লিখুন

ব্লগ পোষ্টের টাইটেল ছন্দ মিলিয়ে লিখতে পারেন। ব্যাপারটি পাঠককে পড়তে উত্সাহিত করে।

শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার করুন

ভালো প্রবাদ বা ফ্রেইজ ব্যবহার করুন।

ছবির মাধ্যমে স্পষ্ট করা আছে তা লিখুন

পোস্টে কোনো ছবি যুক্ত করা হলে তা আর্টিকেলটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। ছবির মাধ্যম অনেক বেশি কথা প্রকাশ করা যায়। আর্টিকেলে ছবির গুরুত্ব বেশি হলে তাহলে কৌশলে শিরোনামে তুলে ধরুন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ কৌশল ৩৭% বেশি কার্যকরি হয় অন্য যে কােনো শিরোনামের চেয়ে।

পাঠককে ধরে রাখতে ফোকাস করুন ‘কে’- এর উপর, ‘কেন’-এর উপর নয়। যেসব টাইটেলে ‘কে’ আছে সেগুলো ২২% বেশি কার্যকরি।

 

শিরোনাম সংক্ষেপে লিখুন
পোস্টটাকে ভালো র‍্যাংকে রাখতে শিরোনামে ৭০ ক্যারেক্টারের বেশি লিখবেন না। এর বেশি লিখলে আপনার টাইটেল সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা অনেকাংশ কাটা যাবে।

হাব স্পট গবেষণা অনুসারে, যেসব টাইটেল/হেডলাইন ৮-১২ শব্দের মধ্যে সেগুলো গড়পড়তা বেশি শেয়ার পেয়েছে টুইটারে। ফেইসবুকে যেসব হেডলাইন ১২-১৪ শব্দের তা সবচেয়ে বেশি লাইক পেয়েছে। তা ছাড়া, যেসব শিরোনামে আটটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো অন্যগুলোর তুলনায় ২১% কার্যকরি।

সার্চ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপটিমাইজের চেষ্টা করুন
সবসময়ই আপনার শিরােনামকে অপটিমাইজ করতে চেষ্টা করবেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে একই সঙ্গে যদি সার্চকে অপটিমাইজ করতে চেষ্টা চালান তাহলে সেটা আরও ভালো হবে।

এ ক্ষেত্রে আপনি ওই কিওয়ার্ডগুলোকে ফোকাস করার চেষ্টা করুন, যেগুলো মানুষ হরহামেশা সার্চ করে। কিওয়ার্ডের জন্য সার্চ ভলিউমের সাহায্য নিতে পারেন।

ব্রেইনস্ট্রোম করুন
উপরের টিপসগুলো অনুসরন করে বিষয়বস্তু অনুযায়ী কম শব্দে দারুণ একটি হেডলাইন লেখার চেষ্টা করুন। হুট করে কিছু মনে আসলো আর লিখে অনলাইনে পাবলিশ করে দিলেন- সেটা ভালো কাজের উদাহরণ নয়। শিরোনাম লিখতে একটু মাথা খাটান।

ফাইনাল পাবলিশ দেওয়া আগে ব্রেনস্ট্রোমিং করেন। একই শিরোনামে বিভিন্ন শব্দ যোগ করে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেন কোনটি ভালো শোনায় ও দেখায়। সঠিক কি ওয়ার্ড কোনটিতে বেশি আছে সেটিকে বাছাই করার চেষ্টা করেন।

ব্লগিংয়ে অ্যাডসেন  বিকল্প আয়ের পথ

অ্যাডসেন্সের কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হলো এ টিউটোরিয়ালে।

অ্যাফিলিয়েশন
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাফিলিয়েশন মার্কেটিং তরুন ফ্রিল্যান্সারদের কাছে পছন্দের তালিকায় বেশ উপরের দিকে। ব্লগ মনেটাইজেশনের জন্য দিন দিন অ্যাফিলিয়েশন হয়ে উঠছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ব্লগে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর সেটি বিক্রি হলে কমিশন পাওয়ার উপায় হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন। যেমন, অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েশন করা যাবে আপনার সাইটে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ ই-কমার্স সাইটের পণ্য আপনার সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করে আয় করা যায়। এখন অনেকের নিশ্চিত আয়ের উৎস এটি।

google-adsense-vs-affiliate-marketing

অ্যাফিলিয়েশনে পর্যপ্ত সময় দিতে হয় ও সাইটের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে কাজ করতে হয়।

অ্যাডসেন্স ঘরানার অন্য মাধ্যমগুলো
কস্ট পার ক্লিক (CPC) ও কস্ট পার মাইল (CPM) এর মাধ্যমে পে করার এখন প্রচুর সাইট রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করেও আয় করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সাইট হচ্ছে-

ইনফোলিঙ্কস
বিডভার্টাউজার
রেভেনিউহিটস
অ্যাডভার্সাল

অ্যাডসেন্সের বিকল্প হিসেবে এ সাইটগুলো সময়ের সঙ্গে পেয়েছে জনপ্রিয়তা।

স্পন্সর আর্টিকেল
এমন অনেক সাইট রয়েছে যেগুলোতে আপনার সাইটকে সাবমিট করলে সেখানে অন্যদের প্রোডাক্ট লেখার জন্য আমন্ত্রণ পাবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রতি আর্টিকেলের জন্য পে করা হবে।

১০, ২০ কিংবা ৫০ ডলারের বিনিময়ে তাদের প্রোডাক্টের জন্য আপনার সাইটে আর্টিকেল লিখতে পারেন।

 

এমন সাইটগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি হচ্ছে Sponsored Reviews । এতে সাবমিশনের পর তারা আপনার সাইট রিভিউ করে অনুমোদন দেবে।

এরপর যারা আপনাকে দিয়ে লেখাতে চায় তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনার সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে। লেখা শেষ হলেই আপনাকে পে করে দেওয়া হবে।

সরাসরি বিজ্ঞাপন
এ ক্ষেত্রে কিছু কোম্পানি আছে যেখানে আপনি আপনার মতো করে বিজ্ঞাপন তৈরি করবেন এবং আপনার সাইটে স্পেস ভাড়া দিবেন। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার সাইটকে অবশ্যই ভালো মানের হতে হবে।

ভালো পরিমানে ভিজিটর নিয়মিত আসতে হবে আপনার সাইটে। সাধারনত স্পেসের জন্য আপনাকে প্রতি মাসে পে করা হবে।

  1. স্থানীয় কোম্পানির বিজ্ঞাপনও এ ক্যাটাগরির অন্তর্ভূক্ত। সাইটের ভিজিটর ভালো হলে কোম্পানিগুলোই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আপনার সাইটে মাসিক হিসেবে স্পেস ভাড়া দিয়ে বড় অংকের অর্থ আয় করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here