বৃষ্টি বিষয়ক তিন কবিতা একবার পরে দেখেন।

0
52

১.

বৃষ্টির হরেক রকম ছন্দে লিখে দিলাম কবিতা
সঙ্গী ছিলো বজ্রকন্ঠ তোমার নাম,
ব্যস্ত শহুরে নাগরিকদের দ্বিমুখী ঢল পেরিয়ে –
কবিতা পৌঁছে যাবে নিমগ্ন রাতে,
ডানাভাঙ্গা একটি সারস পড়ে আছে কাদা জলে
শহর ছুটছে বৃষ্টি পাল্লা দিয়ে…
এসব বিমর্ষ কথন লিখিনি বৃষ্টি মাখা কবিতায়।
আজ বৃষ্টির সন্ধ্যে, প্রচলিত প্রেমাশ্রয়ের বর্ণমালা
তুমি বরং পড়তে পারো,
বৃষ্টির ছন্দে রবী ঠাকুর আশ্রয় পেলেই স্বর্গ নামে,
টিনের চালে ছন্দ তোলে টপাটপ সংগীত ইশ্বর।
তুমি পড়ো, বৃষ্টির আটানব্বই শারীরিক গুনাগুন।
বৃষ্টি আশ্রয়ে তোমায় দিলাম, অকথার বকবকানি
মজা-পুকুরে ডুবে গেছে অলৌকিক পাহাড়।

বৃষ্টির মত অবিরাম ইচ্ছে বর্ণে মুদ্রিত কবিতা
পৌঁছে যাবে বেলি ফুলের পাপড়িতে, উঠোনে
জমে থাকা জলকণার শ্যাওলা গন্ধে, অন্ধকারে
পিচ্ছিল ঘাটতলায় সংখ্যাগুনা পদ পরিক্রমায়।
উপোসী রাতের ক্রোধান্বিত পাঠের বিরক্তি হয়ে
ক্রমঃশ ভাবাবেই বিকল্প আহার বিবেচনায় –
কবিতার মত লিখতে চেয়ে বৃষ্টি আশ্রিত এক
উন্মাদ যুবকের অ-কবিতা।।
(বৃষ্টি দিনের কবিতা)

bristi

 

২.

কেমন থাকে আমাদের খেয়ালি উঠোন
বুক জুড়ে বৃষ্টির পর?
শ্যাওলা তলায় স্পর্শ পেলে জল ধারা
সুখেরা কি বাধে ঘর?
কেমন থাকে অনুভূতিপ্রবণ পাতারা সব
আলতো ঝড়ে নুইয়ে গেলে?
টিনের চালে আজো কি বাজে অমীয় সুর
সোনালি দিন ঘুরেফিরে?
কেমন থাকে গল্পকথার দীর্ঘ রাত্রি সব
বৃষ্টি কথায় ঘরভরিয়ে!

আমি দেখি আশ্চর্য্য সব মেঘেদের আনাগোনা
রাতের আকাশে,
দেয়াল ছুয়ে ফোটা জল নামলে নাম দেই বৃষ্টি।
শহুরে বাতিগুলো নিভে গেলে বিপদাশঙ্কায়
ভেবে নেই বৃষ্টি খুব, বইছে ঝড়!
(শহুরে বৃষ্টি)

৩.

বৃষ্টি মানেই অবাক দুপুর
স্মৃতির কলস হচ্ছে উপুর
বৃষ্টি মানেই শৈশব পুকুর
মন ফড়িঙের অবাক ঘোর।

বৃষ্টি মানেই ঘুমের পিঠে ঘুম
লেপ কাথায় সেকি প্রবল ওম!
বৃষ্টি মানেই সুরেলা টিনের চাল
যাচ্ছে কেটে যত সব আকাল।

বৃষ্টি মানেই তোমাকে চাওয়া
ইচ্ছেরা আজ পাচ্ছে হাওয়া।।
(বৃষ্টি!)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here