শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, শিশুদের গড়ে তুলতে কেমন ব্যবহার করবেন ?

0
45

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার মূলমন্ত্র তাদের হাতেই। সুশিক্ষা , সদাচরণ ও সৎ চরিত্রের মাধ্যমেই একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা তৈরি হয়। দশ মাস গর্ভে থেকে যে শিশুটি পৃথিবীতে আসে, তার সামনে আলো বাতাসের এই দুনিয়ার সবকিছুই থাকে নতুন। সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া শিশু হয় কাদামাটির মতো। তাকে যেমন ইচ্ছা গড়ে তোলা যায় তবে কোন কারিগর তাকে গড়ে তুলছে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা বিশেষ জরুরী। চারপাশে যা দেখে, শিশু তা থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই শিশুর সামনে কেমন আচরণ করা প্রয়োজন, তা সম্পর্কে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আসুন, শিশুদের সামনে কী করবেন, তা সম্পর্কে কিছু আলাপন সেরে নেয়া যাক।

বাড়ির পরিবেশ সুস্থ রাখুন

সংসারে সব দিন সমান যায় না। নানা বিষয় নিয়ে খিটিমিটি লেগে থাকতেই পারে। তাই বলে সদস্যদের সাথে ঝগড়া বিবাদ বাচ্চাদের সামনে টেনে আনবেন না। এর ফলে তার মাঝে ভীতিকর অভিজ্ঞতার তৈরি হয় এবং এসবকিছুই নিজের মাঝে ধারণ করতে থাকে। ঝগড়া বিবাদ বাচ্চাদের সামনে টেনে আনবেন না।

শিশুদের গড়ে তুলতে কেমন ব্যবহার করা উচিত

কাজের লোকের সাথে ভালো ব্যবহার

আমাদের ঘরে কাজ করে এমন ছোট বড় অনেক মানুষ রয়েছে। মাঝেমাঝেই হয়তো তাদের কাজে ভুলচুক হয়েই যেতে পারে। বাজে ব্যবহার না করে তাদের সাথে যদি সহমর্মিতার আচরণ করা হয়, তা হলে খুব সুন্দর একটি পরিবেশ বজায় থাকে। বাড়ির ছোট বাচ্চাদের সামনে কখনো কাজের লোকের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। এর ফলে শিশুদের মনে একটি সুন্দর ছাপ থেকে যায়। পরবর্তীতে তারাও মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে শেখে।

অতিথি সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করবেন না

বাড়িতে অতিথি এসেছে । ভালোভাবে কথাবার্তা কুশলাদি পানাহার ইত্যাদি শেষ হবার পর অতিথি চলে যাবে । অনেক পরিবারেই দেখা যায় যে অতিথি চলে যাবার পরপরই নানা ধরণের আজেবাজে কথা বলা হয়ে থাকে। যদি এসব কথা শিশুদের সামনে বলা হয়ে থাকে, তাহলে অতিথি সম্পর্কে শিশুর মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে শিশু এমন কোনো মন্তব্যও করে বসতে পারে, যার জন্য কিনা আপনাকে লজ্জায় পড়তে হতে পারে। তাই অন্যের সম্পর্কে মন্তব্য করবার আগে সাবধান হোন এবং পারতপক্ষে মানুষের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলবেন না।

শিশুদের গড়ে তুলতে কেমন ব্যবহার করা উচিত

আজ এটা নাও, কাল ওটা দেব

বাচ্চাকে নিয়ে দোকানে গিয়েছেন। চিপস, চকোলেট বা জ্যুস কিনে দিয়েছেন। বাচ্চার চোখ কিন্তু আরো একটা কিছুর ওপর সেঁটে রয়েছে। আপনার কাছে বায়না করবে, এমনটা খুবই স্বাভাবিক। বেশিরভাগ বাবা মা কিংবা অভিভাবক উত্তর দেবেন, ‘ বাবু এটা খায় না। এটা পচা। পেট খারাপ করবে। ’- এই কথাটির মাধ্যমে কিন্তু আপনি বাচ্চার মনে একটি নেতিবাচক চিন্তা ঢুকিয়ে দিলেন। এটি না বলে যদি আপনি বলেন, ‘ঠিক আছে, দেব। তবে আজ নয়। হাতে যেটা আছে, সেটা খেয়ে নাও। পরেরদিন অবশ্যই তুমি তোমার পছন্দের খাবার পাবে।’

খুব সুন্দরভাবে বলা এই কথাটিই কিন্তু বাচ্চার মনে একধরণের ভালোলাগা কাজ করবে। নিজের পছন্দসই জিনিসটি ভবিষ্যতে পেতে যাচ্ছে, এই ভাবনায় সে মনঃক্ষুণ্ণ হবে না।

বাচ্চাকে মিতব্যয়ী হতে শেখান

বাচ্চাকে সকল বাবা মা আদর করবে , এমনটাই স্বাভাবিক । তবে বাচ্চার সকল আবদার মেটাবার মতো কাজ যেন কখনো করবেন না । যদি এমনটি করেন , তাহলে এমন একটি ধারণা গড়ে উঠতে পারে যে চাইলেই সবকিছু পাওয়া যায় । ফলে আরো জেদী ও একরোখা হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় । তাই নির্দিষ্ট একটি সীমার মাঝে বাচ্চার ইচ্ছে পূরণ করুন । পড়াশোনায় ভালো করলে কিংবা ভালোভাবে অনুশাসন মেনে চললে সে পুরস্কার পাবে, এমন একটি ধারণায় তাকে গড়ে তুলুন ।

সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন , তা সম্পর্কে বাবা মা অনেক চিন্তিত থাকেন । তবে ছোট ছোট কিছু কাজের মাধ্যমেই কিন্তু আমরা তাদের ভবিষ্যৎ সুগম করতে পারি। কাদামাটির ছাঁচটি যেন সুন্দর হয়, তা রক্ষা করার দায়িত্ব আপনারই হাতে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here