বাংলা আমার মাতৃভাষা নয়

চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি হোক সকলের। সকলেই
মুক্তমনা, উদারনৈতিক হোক। বাংলা ভাষাকে যদি
আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে
বিশ্বের অনান্য দেশ মেনে নিতে পারে, সম্মানিত
করতে পারে, তবে আমরা কেন তাদের ভাষাকে
ভিনদেশী ভাষা বলে ছোট করছি!! প্রশ্ন থেকে
গেলো।

পৃথিবীর সব ভাষাই মানুষের ভাবের আদান প্রদান
করার জন্য কালের পরিক্রমায় জন্ম নিয়েছে। প্রতিটি
জাতির নিজস্ব ভাষা আছে, আর এই ভাষার
বৈচিত্র্যময়তা চোখে পড়ার মতন। আমাদের দেশেই
দেখুন প্রতিটি অঞ্চলভেদে লোকেদের ভাষাগত
পার্থক্য বিদ্যমান।
আর এই ছোটছোট ভাষাগুলোই মূলত আমাদের মাতৃভাষা,
কেননা মায়ের কাছ থেকেই এগুলো শিখেছি। যদি
মায়ের মুখের ভাষা মাতৃভাষা হয়ে থাকে তবে
আঞ্চলিক ভাষাই আমার মাতৃভাষা। বাংলা আমার
মাতৃভাষা নয়।।

বইপত্র পড়ে রাষ্ট্র নির্ধারিত যে ভাষাকে আয়ত্ত
করি তাকে রাষ্ট্রভাষা বা জাতীয় ভাষা বলতে
পারি। যা সংবাদ মাধ্যমসহ রাষ্ট্রের দ্বারা
নির্দেশিত সকল দাপ্তরিক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক
ব্যবহৃত হয়। মাতৃভাষা কখনওই বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য
কারো দ্বারা নির্দেশিত হতে পারে না! একমাত্র
আমার ‘মা’ আমার মাতৃভাষা নির্ধারণ করতে পারে।
আঞ্চলিক ভাষাই আমার মাতৃভাষা। বাংলা আমার
রাষ্ট্রীয় ভাষা, জাতীয় ভাষা। এ ভাষা আমার
জাতীয়তার পরিচয় বহন করে। আমরা বেশিরভাগ লোকই
মাতৃভাষা আর রাষ্ট্রভাষার পার্থক্য গুলিয়ে একাকার
করছি।

বাঙালী জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত হয়েছিলো
এই রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্যই। বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেবার দাবিতেই
ভাষা আন্দোলন হয়েছে। অথচ বাংলা ভাষার সাথে
পৃথিবীর অনেক দেশের ভাষার শব্দ মিশে গেছে।
ভাষার ক্ষেত্রে বাংলা জন্মলগ্ন থেকেই উদারতার
পরিচয় দিয়েছে। বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর সবকিছু
এসেছিলো এই ভাষাটির জন্যই। আসুন নিজের
জাতীয়তাবাদ বজায় রাখি। ভালোবাসি দেশকে,
দেশের মানুষকে, আর বাঙলার সংস্কৃতিকে। ভাল
থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ।।
[সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত চিন্তা, একমত হবার বাধ্যবাধকতা
নাই]

Add Comment