শিশুদের নেতিবাচক শিক্ষা দিচ্ছে ফেইসবুক অ্যাপ বিস্তারিত পোষ্টে

ফেইসবুকের বিশেষ সংস্করণ, ‘ফেইসবুক কিডস’ শিশুদের জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনছে না বলে মত দিয়েছেন ১০০ শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। মঙ্গলবার এক খোলা চিঠিতে তারা ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে ‘ফেইসবুক কিডস’ অ্যাপটি বন্ধ করার দাবি জানান।

চিঠিতে তারা লেখেন, ৪ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুরাই অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে। এটা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অনেক বড় ধরনের হুমকি। শিশুরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। ভার্চুয়াল সম্পর্কের অনেক মারপ্যাচ বোঝার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তাদের হয়নি। যার ফলে তাদের মধ্যে প্রচুর ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। জবাবে ফেইসবুকের তরফ থেকে বলা হয়, ফেইসবুক কিডস শিশুদের বাবা–মার কাছাকাছি থাকতে সহায়তা করেছে। আমরা এমনও গল্প শুনেছি যে রাতে মা নাইট শিফটে ডিউটি করছেন এবং সেখান থেকে ফেইসবুকের মাধ্যমে তিনি সন্তানকে ঘুম পাড়ানি গল্প শোনাচ্ছেন। মা বাবার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগও নিশ্চিত হয়েছে ফেইসবুক কিডসের মাধ্যমে। এদিকে, চিঠিতে বলা হয়েছে, মা বাবার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য ফেইসবুক কিডসের দরকার নেই। আর ঘুম পাড়ানি গল্পের জন্য সাধারণ ফোনই যথেষ্ট। চিঠিতে একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ১৩–১৪ বছরের যেসব শিশুরা দিনে ছয় ঘণ্টার বেশি ফেইসবুক ব্যবহার করে তাদের মাঝে ৪৭ শতাংশ সুখী নয়।

১০–১২ বছরের মেয়েরা যারা ফেইসবুক ব্যবহার করে তারা চিকন হওয়াকে আদর্শ হিসেবে বেছে নেয় এবং ডায়েট শুরু করে। যার ফলে তাদের প্রাকৃতিক শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। গবেষণায় উঠে আসে ৭৮ শতাংশ ফেইসবুক কিডস ব্যবহারকারীরা প্রতি ঘণ্টায় তাদের ফোন চেক করে। ৫০ শতাংশ ফেইসবুকের প্রতি আসক্ত। ৫০ শতাংশ পরিবারের মতে, শিশুদের স্ক্রিন টাইম (ডিভাইসের মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা মোট সময়) কমানোটা দৈনন্দিন একটি সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

Add Comment