কিভাবে টাকা আয় করে থাকেন ইউটিউবাররা।

0
176

ইউটিউবে যারা বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করে তা আপলোড করে থাকেন তাদেরকে ‘ইউটিউব ক্রিয়েটরস’ বা ‘ইউটিউবারস’ বলা হয়ে থাকে। বড় বড় ইউটিউবাররা বছরে মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় করে থাকেন। প্রচুর মানুষ তাদেরকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ইউটিউবে বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ইউটিউবাররা ইউটিউব থেকে আয় করে থাকেন। জানা যাক ইউটিউবকে কেন্দ্র করে ইউটিউবাররা কিভাবে এবং কী কী উপায়ে টাকা উপার্জন করে থাকেন।

চার প্রক্রিয়ায় ইউটিউবাররা টাকা উপার্জন করে থাকেন। সেগুলো হলো:

  • ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।
  • অন্যান্য সামাজিক প্রচারমাধ্যম।
  • ব্র‍্যান্ডেড ইন্টিগ্রেশন।

·        ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর: ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডরকে প্রায়ই বিভিন্ন স্পন্সরকৃত পোস্ট তৈরি করতে হয় যা কোম্পানিটির হয়ে বিজ্ঞাপনের কাজ করে। র‍্যান্ডের প্রতিনিধি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি একটি ব্র‍্যান্ডের সাথে দীর্ঘদিনের চুক্তিতে আবদ্ধ থেকে জনগণের কাছে মাঝেমধ্যেই ব্র‍্যান্ডটিকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরেন এবং প্রমোট করে থাকেন। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রদর্শনী এবং অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করতে হয়। অনেক বড় বড় ইউটিউবারও বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন।

  • অন্যান্য সামাজিক প্রচারমাধ্যম:ইউটিউবের পাশাপাশি স্ন্যাপচ্যাট, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক এবং বিভিন্ন ব্লগের সাথে পার্টনারশিপ করার মাধ্যমে তারা আয় করে থাকেন। জনপ্রিয় ইউটিউবারই অন্যান্য প্রচলিত সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও ইনফ্লুয়েন্সিং মার্কেটিংয়ের কাজ করে থাকেন। পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপায়েও ইউটিউবাররা আয় করে থাকেন। যেমন:-

পণ্যদ্রব্য বিক্রি

অনেক ইউটিউবার বিভিন্ন পোশাক, খাবার, প্রযুক্তিপণ্য ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে থাকেন যা তাদের পছন্দ, চ্যানেল এবং ব্র‍্যান্ডকে প্রতিফলিত করে। তবে পণ্য বিক্রির এই মাধ্যমের সফলতা অধিকাংশই নির্ভর করে ইউটিউবার ও তার চ্যানেলের জনপ্রিয়তার উপর।

ক্রাউডফান্ডিং

সুপারচ্যাট আসার পূর্বে এটিই ছিলো মূলত গ্রাহকদের ইউটিউবারকে ডোনেট করার মূল উপায়। কিছু ডোনেশন সাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য টাকা যোগাড় করা হয় ব্যবহারকারীদের দান করা অর্থের মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ Kickstarter এবং Patreon-এর কথা বলা যেতে পারে। প্যাট্রিয়ন সাইটটি মূলত অনেক ইউটিউবাররা ব্যবহার করে থাকেন তাদের মাসিক আয়ের একটি উৎস হিসেবে। এখানে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ইউটিউবারকে বিভিন্ন পরিমাণে অর্থ দান করে থাকেন।

নিজস্ব ব্যবসায়ী উদ্যোগ

অন্যান্য ব্র‍্যান্ডের পোশাক এবং পণ্য বিক্রির পাশাপাশি অনেক ইউটিউবার নিজেরাই এখন নিজস্ব ব্র‍্যান্ডিংয়ে পণ্য বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন।

পণ্যদ্রব্য বিক্রি

বিভিন্ন পোশাক, খাবার, প্রযুক্তিপণ্য ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে থাকেন যা তাদের পছন্দ, চ্যানেল এবং ব্র‍্যান্ডকে প্রতিফলিত করে। তবে পণ্য বিক্রির এই মাধ্যমের সফলতা অধিকাংশই নির্ভর করে ইউটিউবার ও তার চ্যানেলের জনপ্রিয়তার উপর।

ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে

গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউবাররা তাদের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অর্থ উপার্জন করে থাকেন। দেখে থাকবেন, কিছু ইউটিউব ভিডিওতে মূল ভিডিও শুরু হবার পূর্বে কিছুক্ষণের জন্য বিজ্ঞাপনী ভিডিও শুরু হয়। এটি এবং ব্যানার এড দেখানোর মাধ্যমে মূলত সকল ইউটিউবাররা টাকা আয় করে থাকেন। ইউটিউবাররা তাদের গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট অন্যান্য সাইট এবং ব্লগে সংযুক্ত করেও অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

  • ব্র‍্যান্ডেড ইন্টিগ্রেশন।

একটি ভিডিওতে বিভিন্নভাবে ইউটিউবাররা তাদের প্রমোটকৃত ব্র‍্যান্ডের নামটি নিয়ে আসেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যেটি দেখা যায় তা হলো ‘Brought to you by’ বলে একটি বিশেষ ব্র‍্যান্ডের নাম বলা। দেখা যায় ইউটিউবাররা সাধারণত তাদের ভিডিওর শুরুতে বা শেষে ‘This video is brought to you by Brand X’ বলে থাকেন। এই উল্লেখকৃত নির্দিষ্ট ব্র‍্যান্ডটিই তাদের নাম সেখানে উল্লেখ করার জন্য ইউটিউবারকে টাকা দিয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here